বাংলাদেশের প্রত্যন্ত উপকূলীয় ও চরাঞ্চলে সুপেয় পানির সংকট কেবল স্বাস্থ্যঝুঁকি নয়, বরং তা শিশুদের শিক্ষার পথেও এক বিরাট অন্তরায়। প্রতিদিন সকালে অনেক শিশুকে কয়েক কিলোমিটার পথ হেঁটে নদী বা দূরবর্তী কূপ থেকে পানি সংগ্রহ করতে হতো। এর ফলে তারা ক্লাসে দেরি করে পৌঁছাত বা প্রচণ্ড ক্লান্তিতে পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারত না। তাছাড়া, দূষিত ও লবণাক্ত পানি পানের কারণে শিশুরা প্রায়ই ডায়রিয়া, আমাশয় ও পানিবাহিত নানা রোগে ভুগত। মাসে গড়ে ৪ থেকে ৫ দিন স্কুলে অনুপস্থিত থাকা তাদের জন্য সাধারণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আমাদের ফাউন্ডেশন যখন সাতক্ষীরা ও কুড়িগ্রামের দুর্গম গ্রামগুলোতে গভীর নলকূপ ও সৌরচালিত ফিল্টারিং ব্যবস্থা স্থাপন করে, তখন এক অভাবনীয় পরিবর্তন লক্ষ করা যায়: ১. স্কুলে শিশুদের উপস্থিতির হার প্রায় ৯২% এ উন্নীত হয়েছে। ২. পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব প্রায় ৮০% কমে গেছে। ৩. বিশেষ করে কন্যাশিশুদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি ও ঝরে পড়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। একটি গভীর নলকূপ শুধু তৃষ্ণা মেটায় না, তা একটি পুরো প্রজন্মের শিক্ষার পথকে সুগম করে। আপনার ক্ষুদ্র অনুদান এভাবেই একটি শিশুর ভবিষ্যৎ আলোকিত করতে পারে।